April 20, 2026, 5:01 am

সিদ্ধিরগঞ্জে সিন্ডিকেট করে গ্যাস চুরির মহোৎসব, কর্তৃপক্ষ নিরব

প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জে সিন্ডিকেট করে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ তিতাস কর্তৃপক্ষ নিরব। কয়েকটি সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে বিভিন্ন আবাসিক ভবনে অবৈধ গ্যাস লাইন সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ত্রুটিপূর্ণ এসব সংযোগ লিকেজ হয়ে ফিস্ফোরণ ঘটে প্রাণ হানির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় অসাধু তিতাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন আতাঁত করে এসব সিন্ডিকেট চক্র চালাচ্ছে সরকারি প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস হরিলুটের মহোৎসব। ফলে সরকার হারাচ্ছেন মোটা অংকের রাজস্ব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় তিতাসের একশ্রেণির ঠিকাদার ও দালালরা অবলম্বন করেছেন অবৈধ উপায়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেট তিতাসের কিছু কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন নব নির্মিত আবাসিক ভবন ও অবৈধ মিল কারখানায় গভীর রাতে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় অন্তত দশটি সিন্ডিকেট অবৈধ গ্যাস সংযোগে নিয়োজিত। তারা এককালিন মোটা অংকের অর্থ নিয়ে গ্যাস সংযোগ দিয়েও ভবন মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিচ্ছেন। সিন্ডিকেট চক্র ও তিতাস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হরিলুট করা হচ্ছে সরকারি সম্পদ গ্যাস। অবৈধ উপায়ে সহজেই গ্যাস সংযোগ ও বিল পরিশোদের জামেলা না থাকায় বাড়ীর মালিকরা হয়ে পড়েছে সিন্ডিকেট নির্বরশীল। ফলে থানা এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। সূত্র জানায়, থানা এলাকায় বৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীর চেয়ে অবৈধ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি। এছাড়াও বহু বাড়ীর মালিকরা বৈধ সংযোগ নিলেও অবৈধভাবে ব্যবহার করছেন একাধিক চুলা।
কদমতলীর বাসিন্দা মো: জাকির হোসেন জানান, অদক্ষ লোকেরা ত্রুটিপূর্ণ লাইন সংযোগ দিচ্ছেন। রাতের আধাঁরে তরিগড়ি করে লাইন সংযোগ দেওয়ায় লিকেজ হয়ে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে অনাকাঙ্খিতভাবে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। তিতাস কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে কোন বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও দুই একদিনের মধ্যে আবার সংযোগ দিচ্ছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আদমজী নগর কদমতলী এলাকার বাসিন্দা ঠিকাদার বাবুলের নেতৃত্বে শক্তিশালী কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। একই এলাকার আলমগীর হলেন সিন্ডিকেট প্রধান। সুমন, দুলাল মুন্সি, জীবন, খায়ের, সুজন ওই সেন্ডিকেটের অন্যমত সদস্য। এসব সিন্ডিকেট গত কয়েক বছর ধরে কদমতলীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছেন। এছাড়াও আটি হাউজিং এলাকায় শাহরিয়ার তপন ও মোস্তফা, মিজমিজিতে রওশন আলি, গোদনাইলে নজরুল ইসলাম ও হাবিব, মৌচাকে রনি সিন্ডিকেট অবৈধ গ্যাস সংযোগের পাশাপাশি মাসোহারাও নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাড়ীর মালিক বলেন, নতুন বাড়ী নির্মাণ করেছি। আমারা চাইনা অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করতে। কিন্তু বৈধ ভাবে সংযোগ দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে স্থানীয় দালাল ঠিকাদারদের মাধ্যমে লাইন সংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহার করছি।
এবিষয়ে জানতে ঠিকাদার বাবুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি গ্যাস লাইন সংযোগ দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
সিন্ডিকেট প্রধান আলমগীরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তিতাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই লাইন সংযোগ দেওয়া হয়। সংযোগ খরচ বাদে তিতাস অফিস ম্যানেজের জন্য প্রতি চুলায় এককালিন বিশ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। সংযোগ চালু রাখতে চুলা প্রতি বছরে নেওয়া হয় ১৫’হাজার টাকা। আমাদের সঙ্গে কথা বলে লাইন সংযোগ নিলে তিতাস কোন জামেলা করেনা।
সিন্ডিকেটের সঙ্গে তিতাস কর্মকর্তাদের আঁতাতের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ তিতাসের ডিজিএম গোলাম ফারুক বলেন, তথ্য পেলেই অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। তবে অবৈধ সংযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে নতুন কৌশল অবিস্কার করে প্রদক্ষেপ নিব।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা